ইকমার্স পণ্যের বিক্রয় বাড়াতে এসইও কেন অপরিহার্য?
ইকমার্স পণ্যের বিক্রয় বাড়াতে এসইও কেন অপরিহার্য?
আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে, কিন্তু সঠিক লোকজন
আপনার পণ্য দেখতে পাচ্ছে না। হয়তো আপনি ভাবছেন,
"আমি এত চেষ্টা করছি, তবু কেন যথেষ্ট বিক্রি বাড়ছে না?"
অধিকাংশ ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের মতো আপনিও হয়তো ফেসবুক
অ্যাডে নির্ভর করছেন, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে
এবং ফলাফলও স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারছে না।
এখনই সময় আপনার নিজের মার্কেটিং চ্যানেল তৈরি করার, আর সেই জন্যই এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন) এর কথা মাথায় আনতে হবে।
এসইও আপনার ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি করে দেয় যাতে এটি সার্চ ইঞ্জিন (যেমন গুগল) এ ভালোভাবে র্যাঙ্ক করে, এবং আপনার ওয়েবসাইটে ফ্রি ট্রাফিক বা ভিজিটর আসে অর্গানিক ভাবে। এটি এমন একটি বিনিয়োগ যা শুরুতে কিছু সময় ও শ্রম নিলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনার ব্যবসার জন্য বিশাল লাভের পথ তৈরি করে।
এসইও কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
এসইওকে ভাবুন যেন এটি আপনার দোকানের সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য পথনির্দেশক সাইনবোর্ড। যখন কেউ আপনার পণ্যের মতো কিছু খুঁজছে, তখন এসইও আপনার ওয়েবসাইটকে নিশ্চিত করে যে প্রথম সারিতে এটি প্রদর্শিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি গুগলে লিখে "বাংলাদেশে সেরা হ্যান্ডমেড গিফট," তবে এসইও নিশ্চিত করে যে সেই ক্রেতা আপনাকেই প্রথম দেখতে পাবে। আপনি যদি এই কাজটি না করেন, তবে প্রতিযোগীরা সেই ক্রেতা পাবে। এসইও ফেসবুক অ্যাডের মতো তাৎক্ষণিক ফলাফল দেয় না। এটা ধৈর্যশীল শিল্পের মতো, কিন্তু একবার ভালোভাবে সেট হয়ে গেলে এটি দীর্ঘমেয়াদী ট্রাফিক দেয় যা আপনাকে প্রতিদিন নতুন গ্রাহক এনে দেবে, ঠিক যেন জমিতে চারা লাগানোর পর তা নিয়মিত ফল দিচ্ছে।
এসইও শুরু করার ক্ষেত্রে, আপনি নিজের থেকেও অনেকে উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে পেশাদারিত্ব না জানলে এটি প্রায়ই সময় নষ্ট করতে পারে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্বমানের এসইও এজেন্সি আছে, যারা আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ থেকে শুরু করে র্যাঙ্কিং পর্যন্ত সাহায্য করতে পারে। তারা সঠিক কৌশল নির্ধারণ, কীওয়ার্ড রিসার্চ, এবং কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স ব্যবসাকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
ফেসবুক অ্যাড বনাম এসইও - পার্থক্য কোথায়?
ফেসবুক অ্যাড তো একবার প্রকাশ করলেন, টাকা ব্যয় করলেন, এবং কিছু সেল পেলেন। কিন্তু বিজ্ঞাপন বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেতার লাইনও বন্ধ। অন্যদিকে, এসইও তেমন নয়। এটি একবার ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে গেলে আপনার ওয়েবসাইট প্রতিদিন সরাসরি ট্রাফিক পেতে শুরু করে, বিজ্ঞাপন ছাড়াই।
এসইও এককভাবে কাজ করলেও, এটি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সারাদিনের কাজকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এটি রি-টার্গেটিংয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ওয়েবসাইটে হাজার হাজার ভিজিটর এসইওর মাধ্যমে এল, যারা কোনো কারণে কেনাকাটা করেনি। এখান থেকেই ফেসবুক রি-টার্গেটিং কাজ শুরু করে। আপনি তাদের জন্য বিজ্ঞাপন চালাতে পারেন যারা ইতোমধ্যেই আপনার ওয়েবসাইট ঘুরে গেছে এবং তাদের আবারো ফিরিয়ে আনতে পারেন।
এসইও কীভাবে কাজ করে?
এসইও অনেকগুলি ধাপে কাজ করে, যা একসঙ্গে আপনার ওয়েবসাইটের উপস্থিতি ও বিক্রয়ে ভূমিকা রাখে। চলুন সহজ করে ব্যাখ্যা করা যাক:
১. কীওয়ার্ড রিসার্চ
যখন আপনার ক্রেতা গুগলে আপনার পণ্যের খোঁজ করে, তারা ঠিক কী শব্দ লিখছে তা বুঝে নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি "বাংলাদেশি জামদানি শাড়ি" বিক্রি করেন, তাহলে এই শব্দ বা ফ্রেজ আপনার ওয়েবসাইটে থাকতে হবে।
২. অন-পেজ এসইও
এটা আপনার ওয়েবসাইটের ভেতরের কাজ। যেমন, পণ্যের টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ইমেজ অপ্টিমাইজেশন ইত্যাদি। এসব ঠিকভাবে সাজানো থাকলে গুগল মনে করবে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট মানসম্মত।
৩. অফ-পেজ এসইও
এটা হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে কাজ। অন্য ওয়েবসাইটগুলো থেকে যদি আপনার ওয়েবসাইটে লিঙ্ক থাকে তবে গুগল বুঝবে যে আপনার ওয়েবসাইটটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. মোবাইল ফ্রেন্ডলি ও দ্রুত লোডিং
গুগল এমন ওয়েবসাইটকে অগ্রাধিকার দেয় যা দ্রুত লোড হয় এবং মোবাইলে ভালোভাবে দেখা যায়। আপনার ওয়েবসাইট যদি ধীরগতি হয় বা মোবাইলে ব্যবহার করা কঠিন হয়, তাহলে আপনার বাউন্স রেট বাড়বে এবং র্যাঙ্কিং কমে যাবে।
এসইও এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীর জন্য সুবিধাpl
১. অর্গানিক ট্রাফিক: এসইওর মাধ্যমে ফ্রি (অর্গানিক) ট্রাফিক পেয়ে আপনার বিজ্ঞাপনের খরচ কমবে।
২. বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ব্র্যান্ড বিল্ডিং: যখন ক্রেতা বারবার আপনার নাম গুগলের টপ রেজাল্টে দেখে, তখন তারা আপনার ব্র্যান্ডের ওপর ভরসা করতে শুরু করে।
৩. বিস্তৃত বাজার: ফেসবুক অ্যাড সাধারণত টার্গেট অডিয়েন্সের সংখ্যা সীমিত করে দেয়। অন্যদিকে এসইও আপনাকে সারাবিশ্বের ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে সাহায্য করতে পারে।
এসইও এবং রি-টার্গেটিং - শক্তিশালী জুটি
এসইও এবং ফেসবুক অ্যাড একসঙ্গে শক্তিশালীভাবে কাজ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এসইওর মাধ্যমে নতুন ক্রেতারা আপনার ওয়েবসাইটে আসে। তারা হয়তো একদিনে কিছু কিনল না, কিন্তু আপনি তাদের রেখে দিতে পারেন। পরে যখন আপনি ফেসবুক বা গুগলে রি-টার্গেটিং বিজ্ঞাপন দেন, তখন সেগুলো তাদের দেখানো সহজ হবে।
এসইও হচ্ছে দরজার নিরাপত্তা হুকের মতো। যারা একবার আপনার পণ্য দেখে চলে যায়, তাদের ভবিষ্যতে ফিরিয়ে আনাও সহজ হয়।
শেষ কথা
আপনার ই-কমার্স ব্যবসার বৃদ্ধিতে এসইও এমন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা একবার ভালোভাবে সেটআপ করলে দীর্ঘ সময় ধরে আপনার পণ্য বিক্রয় বাড়িয়ে রাখতে সক্ষম। এসইও কোনো তাড়াহুড়োর বিষয় নয়, এটি একটিমাত্র সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফলাফল। আর তাই শুরু করুন ধৈর্য ও পরিকল্পনা নিয়ে। আপনার ব্যবসা যেন নিজে থেকে চলতে পারে, সেটি নিশ্চিত করুন এসইওর মাধ্যমে।
উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার যাত্রাকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। “ফেসবুক অ্যাডের মত অনিশ্চিত কারণ নয়, বরং এসইওর মতো দীর্ঘমেয়াদী সমাধানই” হবে আপনার সেরা সঙ্গী।